ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের জাতীয় প্রতীকে — সারনাথের সিংহস্তম্ভের পাদদেশে — যে বাক্যটি অঙ্কিত, তা হল মুণ্ডক উপনিষদের ‘সত্যমেব জয়তে’। অর্থাৎ সত্যই জয় করে। দেশের প্রজাতন্ত্র, সংসদ ভবন, রাষ্ট্রপতি ভবন, প্রতিটি সরকারি নথিতে এই বাক্যটি স্বাক্ষরের মতো বসে আছে। কিন্তু সত্য কি সত্যিই সর্বদা জয় করে? সংবাদপত্রের পাতায় প্রতিদিন কি আমরা সত্যের জয় দেখি — নাকি নিয়মিত দেখি বিপরীত? প্রশ্ন উত্তেজক বটে। তাই শুধু স্লোগান গলায় না মেখে, শ্লোকটির মূল পাঠ, পদে পদে অর্থ, এবং প্রকৃত অর্থে সত্য কীভাবে জয়ী হয় — এই প্রবন্ধে তা খুঁজি। কেননা উপনিষদের এই বাণী নিছক উৎসাহের বুলি নয়; এটি মহাবিশ্বের নিয়মের মুখপাত্র।

॥ सत्यमेव जयते नानृतम् । सत्येन पन्था विततो देवयानः । येनाक्रमन्त्यृषयो ह्याप्तकामा यत्र तत् सत्यस्य परमं निधानम् ॥বাংলা অর্থ — সত্যই জয় করে, অসত্য নয়। সত্যের পথে প্রশস্ত পথ বিস্তৃত — দেবযান। এই পথে ঋষিরা চড়ে সেই স্থানে পৌঁছান, যেখানে সত্যের নিখুঁত, পরম ধন বিধৃত। (মুণ্ডক উপনিষদ ৩।১।৬)

মুণ্ডক উপনিষদ — যে মন্ত্রে শ্লোকটি রয়েছে

মুণ্ডক উপনিষদ অথর্ববেদের ভাবনাকে বহন করে। ‘মুণ্ড’ শব্দের সম্পর্ক আছে মাথার সঙ্গে — কারণ এই উপনিষদ অজ্ঞানকে মাথার মুণ্ডনের মতো ত্যাগ করার কথা বলে। মুণ্ডক উপনিষদ দুই খণ্ডে বিভক্ত; প্রত্যেক খণ্ডে দুইটি করে অংশ (মন্ডল) আছে। আমাদের শ্লোকটি তৃতীয় মন্ডলের প্রথম অংশে অবস্থিত — অর্থাৎ প্রথম খণ্ডের শেষ পর্বে। এখানে ঋষি অঙ্গিরা, তাঁর শিষ্য শৌনককে প্রশ্ন করছেন — ‘কী সেই জ্ঞান, যা জানলে সব জানা যায়?’ এই প্রশ্নের উত্তরেই উচ্চরিত হয় ব্রহ্মবিদ্যার কথা, এবং সেই জ্ঞানের জন্য সত্যকে পথ বলে দেখানো হয়। ঐতিহ্য অনুযায়ী, মহর্ষি ব্রহ্মা প্রথম সনৎকুমারকে, সনৎকুমার অঙ্গিরাকে, আবার অঙ্গিরা সত্যবাহকে এই বিদ্যা শিখিয়েছিলেন। শ্লোকটি তাই এক দীর্ঘ গুরু-শিষ্য পরম্পরার হীরা।

পদে পদে অর্থ — সত্য, অসত্য, দেবযান

প্রথম পঙক্তি ‘সত্যমেব জয়তে নানৃতম্’ — এখানে ‘এব’ অংশটি জোর দেয়, আক্ষরিক উচ্চারণ ‘সত্যই তো জয় করে’। আর ‘নানৃতম্’ মানে অসত্য নয়। দ্বিতীয় পঙক্তিতে ‘সত্যান্য পন্থা’ — সত্যের পথ, ‘বিতত’ মানে বিস্তৃত, ‘দেবযানের পদে’ — একটি প্রসারিত পথ যা দেবতাদের জগতে গিয়ে পৌঁছায়। তৃতীয় পঙক্তিতে ‘যেন আক্রমন্তি ঋষয়ো’ — যে পথ ধরে ঋষিরা উঠেছেন, ‘আপ্তকামা’ — যাদের বাসনা পরিতৃপ্ত, তাদের কামনাই সিদ্ধ। শেষ পঙক্তিতে ‘যত্র তৎ সত্যস্য পরমং নিধানম্’ — যেখানে সত্যের পরম ভাণ্ডার লুকানো। অর্থাৎ সত্য নিজে এমন এক শক্তি, যা কেবল জয়ের দাবি রাখে না, সেই সঙ্গে মানুষের আত্মাকে ঊর্ধ্বমুখী, দেবযানী, অর্থাৎ নৈতিক পথে নিয়ে যায়। অথচ লক্ষ করুন, উপনিষদ সত্যই জয় করবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেয় না ক্ষণিকের জন্য; শেষ পর্যন্ত বলছে — সত্য পুরস্কার হলো পরম ধন, নিজেকে দেখা।

সত্য কী, অসত্য কী — স্তরভেদে সত্যের মাহাত্ম্য

সত্য শুধু মিথ্যা না বলা নয়। ‘সৎ’ ধাতু থেকে ‘সত্’ — যেটি আছে, যার যার সত্তার অবিনশ্বর। রঙিন চিপস, ভেজাল জিনিস, ভুয়া সার্টিফিকেট, ভুয়া ঘোষণা — সবই অনৃতের বহু রূপ। অনৃত মানে ‘অ-ঋত’ — প্রকৃতির নিয়মের বিরোধী, যে বস্তু আপাতমাত্রায় থাকলেও আসলে টেকসই নয়। এখানেই সত্য আর অসত্যের চরম ব্যবধান: সত্য নিজেই স্থায়ী, অসত্য ক্ষণিকের অধিকারী। মিথ্যা যত উন্নত আয়োজন করেই সাজুক, অগণিত প্রমাণকে পাশ কাটাক, আসল পরীক্ষাটি হালকাভাবে নেওয়া যায় না। মানুষের মন এমন এক অঙ্গ, যে ভুল বেশিদিন সহ্য করে না — ফলে অনৃতের অপেক্ষাকৃত মূল্য শেষ পর্যন্ত বোঝা হয়। বৈজ্ঞানিক গবেষণার দুনিয়াতেও এই সত্য প্রযোজ্য — জাল তথ্য কাগজে ক্যামেরায় ধরা পড়ে, সরলরেখা উল্টো হয়ে যায়।

কীভাবে আসলে সত্য জয়ী হয়

সত্য যে জয় করে, তা নীরব শক্তিতে। মিথ্যা উঠে আসে উল্লাসে, হইচইয়ে — কিন্তু তার ভিত খাড়া হয় বালির ওপর। সত্য জয় করে সময় এবং কর্মের মারফত। জাতির ইতিহাসে দেখা যায়, মিথ্যা প্রচার ও ভ্রান্ত তত্ত্ব কয়েক প্রজন্মের ভেতরেই নিজের ভারে ভেঙে পড়ে। এই জয় অবশ্য দ্রুততম নয় — তাই ধৈর্যচ্যুত হয়ে মানুষ মনে করে, মিথ্যাই জেত। মহাভারতে এমনকি কথিত হয়েছে, সত্যের জয় ধীরে হয় কিন্তু চিরকাল মানায়। সত্য জয় করে সেই অর্থেও, যেভাবে সন্ধ্যার রাত সকালের সূর্যে রূপান্তরিত হয় — কেবল নিয়মের চক্রে। শ্লোকের ধর্মীয় প্রেক্ষিতে, সত্যের জয় আত্মার মুক্তিও — যে মানুষ সত্যকে আশ্রয় করে, তার অহংকার, দ্বেষ, ভয় ধীরে ধীরে ধুয়ে যায়, শেষে সে দেখতে পায় সত্যের পরম নিধান — ব্রহ্ম। সে জয় আকাশে চোখে নয়; অন্তরের অতলে।

জাতীয় প্রতীকে বাঁধা — দেশের নীতিবাক্য

১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি ভারত যখন সংবিধান প্রণয়ন করে প্রজাতন্ত্র হয়, তখন সিংহস্তম্ভের পাদদেশের এই শ্লোকটিকেই জাতীয় নীতিবাক্য বাছাই করা হয়। সারনাথের স্তম্ভটি সম্রাট অশোক নির্মাণ করেছিলেন — যুদ্ধজয়ী প্রায় সাড়ে তিনশো বছরের পুরনো সেই রথচক্র এবং সিংহ আজও দাঁড়িয়ে। অশোক যুদ্ধের রক্তপাত দেখে যুদ্ধমুখ, শান্তিমুখ হয়েছিলেন; তাঁর স্তম্ভে ধর্মচক্র ধর্মশাসনের প্রতীক। সেই প্রাচীন স্তম্ভকে ঘিরে নতুন প্রজাতন্ত্র ‘সত্যমেব জয়তে’ লিখে এই দাবি করল যে, এই রাষ্ট্রের শক্তি অস্ত্রে নয়, ন্যায়ে। সংসদ, আদালত, সেনাবাহিনী — সরকারি সবকিছুই সেই মন্ত্রকে ধারণ করে। নয়-দিশে সংকটে, দুর্যোগে, যুদ্ধে সেই মন্ত্রই মানুষকে মনে করিয়ে দেয় — চূড়ান্ত জয় আসে সত্যের পথেই।

উপসংহার — সেই পরম নিধান

প্রাত্যহিক জীবনে সততা বিশাল কিছুর দাবি করে না; ছোট জিনিসের সমষ্টি। পরীক্ষায় নকল না করা, বেচাকেনায় ওজনে কম না দেওয়া, দে-দনের টাকায় হিসাব ফাঁকি না করা, গুজব ছড়ানো না, অন্যায় করেছেন তা স্বীকার করা — এগুলিই সত্যের ক্ষুদ্র চর্চা। পারিবারিক জীবনেও সততা — একে অপরের কাছে চিন্তা ও অনুভূতি লুকিয়ে না রাখা — সম্পর্ককে গভীর করে। শিক্ষার্থীর জীবনে সত্য পথ ছোট করে, কারণ তাকে প্রতিদিন পরীক্ষা দিতে হয় নিজের কাছে। সংস্থা, কোম্পানি, প্রশাসন যত স্বচ্ছ, সাধারণ মানুষ ততই আস্থাবান। মনে রাখবেন, সত্যের দাম অবিলম্বে চোখে না এলে হতাশ হবেন না; অনৃত যতই আভিজাত্যে হাসুক, সাতদিনের নাটকের পর্দা ফুরোয়। প্রতিটি বড় সত্য জয় শুরু হয় একটি একক সৎ সিদ্ধান্ত থেকে।

‘সত্যমেব জয়তে’ শুধু একটি নীতিবাক্য নয়; এটি মানবজীবনের সনদ। সত্য যখন নিয়ম, অসত্য যখন অগ্রাহ্য, তখন আমরা প্রকৃতি ও সমাজের মধ্যে সামঞ্জস্য খুঁজি। ঋষিরা জানতেন, মিথ্যার সঙ্গে সংগ্রামে ব্যক্তিকে হয়তো ক্ষণিকের দুঃখ পেতে হয়, কিন্তু সত্যের যে পথ — দেবযান — তা কখনো হারিয়ে যায় না। যে পথ ধরে ঋষিরা ‘আপ্তকাম’ হয়েছেন, তাদের আর ক্ষণিকের ভোগ দরকার হয়নি; তারা পৌঁছেছেন ‘সত্যস্য পরমং নিধানম্’ — সত্যের চিরস্থায়ী ভুবনে। আমরা সবাই সেই পথযাত্রী। মোদী হোক বা সাধারণ কৃষক, ছাত্র বা গৃহিণী — যিনি সত্যে থাকেন, তিনি সেই পথে। প্রতিদিন সকালে সূর্য ওঠে সত্যের আশ্বাসে; দেশের প্রতীক বলে — ‘সত্যমেব জয়তে’। আসুন, আমরা তা শুধু প্রতীকে নয়, কর্মে বাঁধি।

সত্যের ধাপে ধাপে প্রয়োগ

সততা একদিনে অর্জিত হয় না; এটি সত্যের ছোট ছোট অনুশীলন থেকে গড়ে ওঠে। প্রথম ধাপ — নিজের সঙ্গে সত্য: নিজের অনুভূতি, দুর্বলতা ও ক্ষমতা স্বীকার করা। যে নিজেকেই প্রতারণা করে, সে অন্যের সঙ্গে সৎ হতে পারে না। দ্বিতীয় ধাপ — কথায় সত্য: প্রতিশ্রুতি রাখা, মিথ্যা বলা থেকে বিরত থাকা। এটি সহজে শুরু হয় ক্ষুদ্র দৈনন্দিন বিষয় থেকে — যেমন সময়ের কথা, হিসাব-নিকাশের কথা, ওজনে কম না দেওয়া। তৃতীয় ধাপ — কাজে সত্য: কাজের গুণাগুণ নিশ্চিত করা, দুর্নীতিতে না জড়ানো, ন্যায্য পণ্য বিক্রি করা। চতুর্থ ধাপ — সম্পর্কে সত্য: পরিবার, বন্ধু, সহকর্মীদের কাছে চিন্তা ও অনুভূতি খোলাখুলি প্রকাশ করা, মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক ভাঙা নয়। এই ধাপগুলো গড়ে তোলার অনুশীলনই সত্যমেব জয়তে-কে জীবনের অভ্যাসে পরিণত করে।

সত্যের প্রয়োগ কেবল ব্যক্তি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়; তা বিস্তৃত হয় প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্র পর্যন্ত। একটি কোম্পানি যদি তার পণ্যের তথ্য সঠিকভাবে দেয়, তাহলে গ্রাহকের আস্থা টিকে। একটি সরকার যদি স্বচ্ছতা বজায় রাখে, তাহলে জনগণের বিশ্বাস অটুট থাকে। সাংবাদিকতা, বিচার, শিক্ষা — প্রতিটি পেশায় সত্য তার ভিত্তিপ্রস্তর। দুর্নীতি, ঘুস, অনিয়ম — এগুলো মিথ্যার ফল, যার পরিণাম শেষ পর্যন্ত সর্বনাশ। উপনিষদের শ্লোক তাই বলে — সত্য শুধু ধর্ম নয়, এটি দেবযান; অর্থাৎ সেই পরম পথে যা মানুষকে স্থায়ী কল্যাণে পৌঁছে দেয়। ধাপে ধাপে সত্য প্রয়োগে পারদর্শী ব্যক্তি ও সমাজ কখনও হেরে যায় না; কারণ তার ভিত্তি বালিতে নয়, শিলার ওপর।

মিথ্যার স্বল্পায়ু প্রকৃতি

অসত্য বা মিথ্যার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো এর স্বল্পায়ু প্রকৃতি। মিথ্যা একটি মিথ্যা ঢাকতে আরও মিথ্যা ডাকে — অবশেষে এক জাল জট পাকিয়ে নিজেই ভেঙে পড়ে। একটি মিথ্যা তথ্য এতদিনই টিকে, যতদিন এর সত্য নজরে আসে না; কিন্তু সত্যের নিজের জোর আছে — সময়, পরীক্ষা ও যাচাইয়ের সঙ্গে মিথ্যাকে খুলে যায়। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ভুয়া তথ্য ধরা পড়ে, আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য উন্মোচিত হয়, ইতিহাসে ভুয়া গৌরব ম্লান হয়। এই কারণে উপনিষদ বলেছে, ‘সত্যমেব জয়তে নানৃতম্’ — নিজেই অসত্যকে অগ্রাহ্য করে। মিথ্যা ক্ষণকালের আলো দিতে পারে, কিন্তু তা সূর্যের মতো স্থায়ী আলো নয়; ক্ষণিকের মোমবাতির মতো জ্বলে-জ্বলে নিভে যায়।

সমাজেও এই নিয়ম প্রযোজ্য। আমরা দেখেছি, অপপ্রচার ও ভুয়া খবর যতই ছড়াক, যথাসময়ে জনমত সত্যের পক্ষে দাঁড়ায়। গুজবের জীবনীশক্তি ক্ষণস্থায়ী, কারণ মানুষের অন্তর ন্যায়ের প্রতি আকৃষ্ট; ভুল হয়তো কিছুদিন চলে, কিন্তু ধীরে ধীরে বোঝা যায় সত্যই শক্তিস্থল। ব্যক্তিজীবনেও একই — যে মানুষ মিথ্যা বলে সমৃদ্ধির স্বপ্ন দেখে, সে শান্তি হারায়, আস্থা হারায়; শেষে উত্তীর্ণ হয় একাকিত্বে। অন্যদিকে সত্যবাদী মানুষ যদিও বেঁচে থাকার পথ কঠিন পায়, তার আত্মা, তার সম্পর্ক, তার সমাজ-মর্যাদা টেকে। এই কারণেই শাস্ত্র বলে, অসত্যের আয়ু অল্প, কিন্তু সত্যের আয়ু অনন্ত। মিথ্যার সেই স্বল্পায়ুই আমাদের ভরসা — ধৈর্য ধরলে জয় সত্যের।

সততার সামাজিক ফলাফল

সততা ও সমাজের স্বাস্থ্য অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে। যখন একটি সমাজের সদস্যরা পরস্পরের কথা বিশ্বাস করে, তখন ব্যবসা, বন্ধুত্ব, শিক্ষা, চিকিৎসা — সব সহজ ও ন্যায্য হয়ে যায়। একজন চিকিৎসক সৎভাবে রোগ নির্ণয় করলে রোগীর জীবন বাঁচে; একজন শিক্ষক সৎভাবে মূল্যায়ন করলে মেধা ও পরিশ্রম পুরস্কৃত হয়। এর বিপরীতে, দুর্নীতি ও প্রতারণা সমাজের আস্থা ভাঙে, মেধার মূল্য হ্রাস পায় এবং বিভ্রান্তি জন্মে। সমাজে সততার ফল এক দীর্ঘমেয়াদি লভ্যাংশ — আজ সংযম করলে আগামী প্রজন্ম আস্থার ঐতিহ্য পায়। যে পরিবার সততা শিক্ষা দেয়, সেই পরিবারে ছেলেমেয়েরা আত্মবিশ্বাসী হয়; যে দেশ সততাকে পুরস্কৃত করে, সেই দেশে বিনিয়োগ ও উন্নয়ন ফুলে-ফলে ওঠে।

সততার সামাজিক প্রভাব আরও লক্ষণীয় — নিরাপত্তা ও শান্তিতে। ভেজাল ওষুধ, ভেজাল খাদ্য, দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসন — এসবের প্রতিকার সম্ভব শুধু সততা দিয়ে। স্বচ্ছ বিচারব্যবস্থা, সৎ প্রশাসন জনগণের মনে বিশ্বাস সৃষ্টি করে; সেই বিশ্বাসই সমাজকে সংঘাত ও অস্থিরতা থেকে রক্ষা করে। অন্যদিকে প্রতারণা-ভরা সমাজ ধীরে ধীরে বিবর্ণ হয়। তাই সততা শুধু ব্যক্তিগত নৈতিকতা নয়; এটি একটি সামাজিক স্থাপত্য — এক পাথরের ওপর আরেক পাথর গেঁথে গড়া নিরাপদ ভবন। আমরা প্রত্যেকে যখন নিজের জায়গা থেকে সততা পালন করি, তখন সেই ক্ষুদ্র সততাগুলো মিলে একটি সত্যভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলে। এই সমাজই ‘সত্যমেব জয়তে’র সাক্ষ্য বহন করে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গর্বিত করে।